সৌদি আরব, মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে একটি পরামর্শ বৈঠক করেছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, মন্ত্রীরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য চার দেশের মধ্যে পরামর্শ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রীরা অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও বৈরী তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সংলাপ ও কূটনীতিই টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ। এ প্রসঙ্গে তাঁরা স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক হুথি হামলাসহ সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো সব হামলার কঠোর ভাষায় নিন্দা জানানো হয়। মন্ত্রীরা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি অবিচল সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিজেকে, নিজের ভূখণ্ড ও জনগণকে রক্ষার অন্তর্নিহিত অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা সমুদ্রপথে নৌচলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
মন্ত্রীরা ইয়েমেনের বৈধ সরকার ও প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইয়েমেনি-ইয়েমেনি সংলাপের মাধ্যমে ইয়েমেনে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রচেষ্টায় সমর্থন জানান।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে মন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য এ ইস্যুর কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন, সার্বভৌম, টেকসই ও ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানান। তাঁরা সুদানের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানান, সমান্তরাল কোনো কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেন এবং সুদানে অস্ত্র, ভাড়াটে যোদ্ধা ও বিদেশি যোদ্ধাদের অবৈধ প্রবেশ বন্ধের আহ্বান জানান।
বৈঠকের শেষে মন্ত্রীরা সম্মিলিত নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখতে সম্মত হন।
