উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মন্ত্রী পরিষদের ১৬৮তম অধিবেশন রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত হয়। বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন রাশিদ আল-জায়ানির সভাপতিত্বে অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরিষদের মহাসচিব অংশ নেন।

চূড়ান্ত বিবৃতিতে পরিষদ “সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়া”-র সৌদি আরবে অব্যাহত হামলার কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানায়। এসব হামলায় পবিত্র দুই মসজিদ ও আশপাশের এলাকা, বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয় এবং বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় পরিষদ।

পরিষদ জানায়, সদস্য দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে সৌদি আরবের পাশে আছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপ সমর্থন করে। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা সবার ওপর সরাসরি হামলা, এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো এককভাবে ও সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ইয়েমেন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, বিশেষ করে ২২১৬ (২০১৫) এবং লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা সংক্রান্ত ২৭২২ (২০২৪) নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠীর ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর এবং গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানায় পরিষদ। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির যে বিবৃতিতে আরামকো স্থাপনাসহ সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানানো হয়, তাকেও স্বাগত জানানো হয়; পাশাপাশি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ইরান প্রসঙ্গে পরিষদ উপসাগরীয় দেশগুলো ও জর্ডানে সরাসরি কিংবা প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানায়, এর পূর্ণ দায় ইরানের ওপর চাপায় এবং অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে হামলা বন্ধ, ২৮১৭ (২০২৬) নম্বর প্রস্তাব মেনে চলা ও ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়।

হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরকে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধমনি আখ্যা দিয়ে পরিষদ জলপথ বন্ধ, মাইন পোঁতা ও অবৈধ মাশুল আরোপ প্রত্যাখ্যান করে এবং হরমুজে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়ে পরিষদ বলে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক বিষয়, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্রক্সিদের সমর্থনের প্রশ্ন থাকতে হবে এবং আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্ত করতে হবে।