মজুরি ও কর্মঘণ্টা নিয়েই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকে। এই নির্দেশিকায় কিওয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মের নলেজ সেন্টারে উল্লেখিত সৌদি শ্রম আইনের এ দুই বিষয়ের নিয়মগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

মূল মজুরি: লিখিত বা অলিখিত চুক্তির অধীনে কাজের বিনিময়ে শ্রমিককে যা কিছু দেওয়া হয়, তার ধরন বা পরিশোধের পদ্ধতি যা-ই হোক, সঙ্গে পর্যায়ক্রমিক বেতন বৃদ্ধি।

প্রকৃত মজুরি: মূল মজুরির সঙ্গে পরিশ্রম, ঝুঁকি, চুক্তি বা কর্মবিধির ভিত্তিতে প্রাপ্য সব বাড়তি অর্থ, যেমন কমিশন, বিক্রয় বা মুনাফার শতাংশ, ভাতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বা পারিবারিক দায় মেটাতে বৃদ্ধি। অনুদান বা বোনাস চুক্তি বা বিধিতে নির্ধারিত থাকলে বা প্রথাগতভাবে দেওয়া হলে তা-ও এর অন্তর্ভুক্ত। বস্তুগত সুবিধার মূল্য প্রতি বছরে সর্বোচ্চ দুই মাসের মূল মজুরির সমান ধরা হয়, যদি না চুক্তি বা বিধিতে এর চেয়ে বেশি নির্ধারিত থাকে।

বেতন কখন দিতে হয়: দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের অন্তত সপ্তাহে একবার; মাসিক বেতনের শ্রমিকদের মাসে একবার। কাজ চুক্তিভিত্তিক (পিস-রেট) হলে এবং দুই সপ্তাহের বেশি সময় লাগলে, প্রতি সপ্তাহে সম্পন্ন কাজের অনুপাতে অর্থ দিতে হয় এবং কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পরের সপ্তাহে বাকি পুরো মজুরি দিতে হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে মজুরি অন্তত সপ্তাহে একবার দিতে হয়।

কর্মঘণ্টা: নিয়োগকর্তা দৈনিক মানদণ্ড গ্রহণ করলে দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক মানদণ্ড গ্রহণ করলে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি প্রকৃত কাজ করানো যাবে না। রমজানে মুসলিম শ্রমিকদের জন্য তা কমে দিনে ৬ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৩৬ ঘণ্টা হয় (ধারা ৯৮)।

মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ব্যতিক্রম: কিছু শ্রেণির শ্রমিক বা অবিরাম নয় এমন কাজে দিনে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো যায়, আর কিছু বিপজ্জনক বা ক্ষতিকর কাজে দিনে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত কমানো যায়। নিরাপত্তারক্ষী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য দিনে ১২ ঘণ্টা, যা রমজানে ১০ ঘণ্টা হয়, তবে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪৮ (রমজানে মুসলিমদের জন্য ৩৬) ছাড়াতে পারবে না; এর বেশি কাজ ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হয়।

বিরতি: অন্তত আধা ঘণ্টার বিশ্রাম, নামাজ ও খাবারের বিরতি ছাড়া টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না, এবং শ্রমিক দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কর্মস্থলে থাকবেন না। এসব বিরতি প্রকৃত কর্মঘণ্টায় গণ্য হয় না, এবং নিয়োগকর্তা এ সময় শ্রমিককে কর্মস্থলে থাকতে বাধ্য করতে পারেন না।

ওভারটাইম: প্রতিটি অতিরিক্ত ঘণ্টার জন্য নিয়োগকর্তা ঘণ্টাপ্রতি মজুরির সঙ্গে মূল মজুরির ৫০% দেবেন। শ্রমিকের সম্মতিতে এর বদলে বেতনসহ ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি দেওয়া যায়। শ্রমিকের সম্মতি ছাড়া ওভারটাইম বছরে ৭২০ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না, এবং যে মাসে কাজ দেওয়া হয়েছে সেই মাসের শেষে এর অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

মজুরির সুরক্ষা: আদালতের ভিত্তি ছাড়া নিয়োগকর্তা শ্রমিকের পুরো বা আংশিক মজুরি আটকে রাখতে পারেন না। শ্রমিক সময়মতো উপস্থিত হয়ে নিয়োগকর্তার কারণে কাজ করতে না পারলে ওই সময়ের মজুরি পাবেন। মাসিক বেতনের শ্রমিককে তার লিখিত সম্মতি ছাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক, পিস-রেট বা ঘণ্টাভিত্তিক মজুরিতে নেওয়া যাবে না। বীমার কিস্তি নিয়োগকর্তা বহন করেন এবং কর্মীর কাছে এতে অংশ চাইতে পারেন না।

কী করবেন: চুক্তি ও বেতনের স্লিপ যাচাই করুন এবং ওভারটাইমের রেকর্ড রাখুন। যেসব বিষয়ে অভিযোগ করা যায় তার মধ্যে বেতন বিলম্ব ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন রয়েছে। গৃহকর্মীরা মুসানেদ (Musaned) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করেন; সেবার বিস্তারিত কিওয়া প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।

এই তথ্য সৌদি শ্রম আইন এবং কিওয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মের নলেজ সেন্টারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; সরকারি পাঠ ও যেকোনো হালনাগাদের জন্য প্ল্যাটফর্মটি দেখুন।