যুবরাজ ও মন্ত্রিপরিষদের সভাপতি (প্রধানমন্ত্রী) মহামান্য প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) আজ রিয়াদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।

বৈঠকের শুরুতে যুবরাজ সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। ওই সাক্ষাতে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা হয়।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর মন্ত্রিসভা প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল, বৈধ সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণের প্রতি সৌদি আরবের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। এর লক্ষ্য প্রিয় এই দেশে অভ্যুত্থানের অবসান ঘটানো এবং সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার কাছ থেকে রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার করা। এই মিলিশিয়া শান্তির বিকল্প হিসেবে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পথ বেছে নিয়েছে, ইয়েমেন ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও গভীর করে চলেছে এবং অঞ্চল ও দক্ষিণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে।

মন্ত্রিসভা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলগত কমিটির জরুরি বৈঠকের ফলাফলের প্রশংসা করে। বৈঠকে তিন দেশের সংহতি এবং মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, বেসামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোসহ সৌদি আরবের ওপর ঘৃণ্য হামলার মোকাবিলায় তাদের এক কাতারে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বৈঠকে সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্রিয় করা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের বাস্তব প্রয়োগে অবিলম্বে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়, যা প্রস্তুতি, সামরিক সমন্বয় এবং এসব হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করবে।

অন্য এক প্রসঙ্গে, শুরা কাউন্সিলের নবম মেয়াদের তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের (আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন) বার্ষিক রাজকীয় ভাষণের মহান বিষয়বস্তুর ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রিসভা। ভাষণে রাষ্ট্রের অটল মূলনীতি ও সুদৃঢ় আদর্শ, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর প্রধান অর্জন, উন্নয়নমূলক সংস্কার ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সুফল এবং পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি ও অবিচল অবস্থানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের মর্যাদা ও কার্যকর ভূমিকা জোরদারে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।

মন্ত্রিসভা সৌদি আরবের সামগ্রিক উন্নয়নযাত্রায় সহায়তা, সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার, আইনি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান এবং কর্মদক্ষতার মান বৃদ্ধিতে শুরা কাউন্সিলের ভূমিকার প্রশংসা করে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভা জোর দিয়ে বলে, নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা ও দেশের স্বার্থ সবসময় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় এগুলোই পথনির্দেশক হবে।

বৈঠক শেষে সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী সালমান বিন ইউসুফ আল-দোসারি জানান, মন্ত্রিসভা আগামী অর্থবছরের রাষ্ট্রীয় সাধারণ বাজেটের প্রাথমিক প্রাক্কলনকে সৌদি অর্থনীতির দৃঢ়তা এবং বৈশ্বিক পরিবর্তন ও ঘটনাপ্রবাহ মোকাবিলায় এর নমনীয়তার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এটি এমন আগাম নীতির মাধ্যমে হচ্ছে, যা জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করে এবং আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় রেখে সেবা ও উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখে।

মন্ত্রিসভা সৌদি আরবে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পর্কিত কয়েকটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে। দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ফোরামের কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়। ফোরামের দ্বিতীয় আসরে এমন কিছু উদ্যোগ চালু হয়েছে, যা আল্লাহর ইচ্ছায় সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রভাবসম্পন্ন অংশীদারত্ব সক্রিয় করা এবং এ খাতে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরিধি বিস্তারে অবদান রাখবে, যা জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নযাত্রাকে এগিয়ে নেবে।

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর পালিত শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিসভা। শিক্ষাদান ও নৈতিক শিক্ষার দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের প্রচেষ্টা এবং মহৎ মূল্যবোধ ও জাতীয় পরিচয়ে অবিচল, উচ্চ বৈজ্ঞানিক ও জ্ঞানগত উৎকর্ষসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলায় তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এটি পালিত হয়, যাতে এই প্রজন্ম বৈশ্বিক অর্জনের মঞ্চে অগ্রগতি ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।

মন্ত্রিসভা তার কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে, যার মধ্যে কিছু বিষয় শুরা কাউন্সিলও যৌথভাবে পর্যালোচনা করেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক কাউন্সিল, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক কাউন্সিল, মন্ত্রিসভার সাধারণ কমিটি এবং মন্ত্রিসভার বিশেষজ্ঞ কমিশন এসব বিষয়ে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তাও পর্যালোচনা করা হয়। এরপর মন্ত্রিসভা নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:

প্রথমত:

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্র প্রকল্প বিষয়ে সৌদি আরব সরকার ও তুরস্ক প্রজাতন্ত্র সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি অনুমোদন।

দ্বিতীয়ত:

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ফোরামের সঙ্গে আলোচনা ও তাতে স্বাক্ষরের জন্য জ্বালানিমন্ত্রী মহামান্য প্রিন্সকে—বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধিকে—ক্ষমতা অর্পণ।

তৃতীয়ত:

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রণালয় এবং ঘানা প্রজাতন্ত্রের স্থানীয় সরকার, প্রথাগত নেতৃত্ব ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ইসলামবিষয়ক খাতে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ঘানার পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও তাতে স্বাক্ষরের জন্য ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রীকে—বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধিকে—ক্ষমতা অর্পণ।

চতুর্থত:

পরিবেশ সুরক্ষা খাতে সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে সিরীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও তাতে স্বাক্ষরের জন্য পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রীকে—বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধিকে—ক্ষমতা অর্পণ।

পঞ্চমত:

উভয় প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন এবং আলবেনিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারকের খসড়া নিয়ে আলবেনীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও তাতে স্বাক্ষরের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে—বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধিকে—ক্ষমতা অর্পণ।

ষষ্ঠত:

টেলিভিশন খাতে সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবের রেডিও ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ এবং আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্রের পাবলিক টেলিভিশন কোম্পানির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক অনুমোদন।

সপ্তমত:

উচ্চশিক্ষা তহবিলের বিধিমালা অনুমোদন।

অষ্টমত:

রিয়াদ শহরে বিমাসংক্রান্ত বিরোধ ও লঙ্ঘন নিষ্পত্তির প্রাথমিক কমিটির সভাপতি ও দুই সদস্যের সদস্যপদ নবায়ন অনুমোদন।

নবমত:

বিগত কয়েকটি অর্থবছরের জন্য কিং আবদুল আজিজ আরবীয় খাঁটি জাতের ঘোড়া কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব অনুমোদন।

দশমত:

মন্ত্রিসভার কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, যার মধ্যে রয়েছে পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সৌদি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, ইমাম আবদুল আজিজ বিন মোহাম্মদ রয়্যাল রিজার্ভ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় সামাজিক গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র, ঘোড়দৌড় ক্লাব এবং মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন।

একাদশতম:

(পঞ্চদশ) ও (চতুর্দশ) গ্রেডে এবং (রাষ্ট্রদূত) ও (মিনিস্টার প্লেনিপোটেনশিয়ারি) পদে নিম্নরূপ পদোন্নতি অনুমোদন:

- সালেহ বিন মোহাম্মদ আল-হুদাইসিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে (পঞ্চদশ) গ্রেডে (জ্যেষ্ঠ কার্য উপদেষ্টা) পদে পদোন্নতি।

- মিসফির বিন সাঈদ আল-শামরানিকে সীমান্তরক্ষী মহাপরিদপ্তরে (পঞ্চদশ) গ্রেডে (জ্যেষ্ঠ কার্য উপদেষ্টা) পদে পদোন্নতি।

- ইবরাহিম বিন বুজাই বিন তুয়াইলিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (চতুর্দশ) গ্রেডে (কৌশল উপদেষ্টা) পদে পদোন্নতি।

- মোহাম্মদ বিন মুফলিহ আল-দারআনিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (চতুর্দশ) গ্রেডে (কার্য উপদেষ্টা) পদে পদোন্নতি।

- রুবাই বিন তাহুস আলে মাসউদকে কারাগার মহাপরিদপ্তরে (চতুর্দশ) গ্রেডে (মহাপরিচালক) পদে পদোন্নতি।

- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি:

ড. খালিদ বিন মোহাম্মদ আল-মানজালাউইকে (রাষ্ট্রদূত) পদে।

ওয়ালিদ বিন ওমর বাআসিমকে (মিনিস্টার প্লেনিপোটেনশিয়ারি) পদে।

আবদুর রহিম বিন মাতার আল-উমারিকে (মিনিস্টার প্লেনিপোটেনশিয়ারি) পদে।