জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠীর অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলাও রয়েছে, যাতে বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

পরিষদের সভাপতির দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে ১০ ও ১১ অক্টোবর “কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা”, যাতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটে; পাশাপাশি অন্যান্য বিমানবন্দর ও সৌদি আরামকোর স্থাপনায় একাধিক হামলা হয়েছে। সদস্যরা নিহতদের পরিবার এবং সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হুথিদের অব্যাহত হামলা ও হুমকিরও তাঁরা আবারও কঠোর নিন্দা জানান এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বিবৃতিতে ২০১৫ সালের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাব ও পরবর্তী প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সদস্যরা ইয়েমেন সরকারসহ বাস্তবসম্মত সহযোগিতার আহ্বান জানান, যাতে হুথিরা অস্ত্র, সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন এবং নতুন হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অন্য কোনো সহায়তা না পায়।

নিজ ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের প্রতি সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশটির আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা হুথিদের অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানান।

সদস্যরা ইয়েমেন সরকারের প্রতি পরিষদের সমর্থন এবং ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাঁদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনিদের নেতৃত্বাধীন একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গের প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানান।