সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলের পুরোনো মাটির ঘর ও প্রাসাদ শুধু বসবাসের জায়গা ছিল না, সময়ের সঙ্গে সেগুলো জীবন্ত শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে। এগুলোর দেয়াল ও প্রবেশপথ এমন খোদাই ও নকশায় সাজানো, যা এদের দৃশ্যমান পরিচয় গড়ে তোলে এবং আজ পর্যটক ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের টানে।

নাজরানি অলংকরণে রয়েছে উঁচু রিলিফ থেকে শুরু করে জ্যামিতিক ও প্রতীকী নকশা। ‘আফারিজ’ নামের অলংকৃত পাড় তাক, দরজা, জানালা ও প্রবেশপথ ঘিরে থাকে এবং মাটির দেয়ালে গভীরতা যোগ করে।

স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ বিশেষজ্ঞ নাসের মুবারক আল-সুকুর বলেন, এই অলংকরণের ব্যবহারিক দিকও ছিল। কারিগররা খড় বা ‘আশনান’ নামের অধিকতর শক্ত উপাদান মেশানো মাটি দিয়ে ‘শারারিফ’ তৈরি করতেন, যা ছাদে নির্দিষ্ট উচ্চতায় বসানো জালিদার ত্রিভুজ এবং বৃষ্টির পানি থেকে দেয়াল রক্ষা করে। সবুজ রং আসত সেদ্ধ বারসিম থেকে, লাল ডালিম ও আয়রন অক্সাইডসমৃদ্ধ পাথর থেকে, আর কালো কিছু উদ্ভিদের আলকাতরা থেকে। কাফেলা ও হজের পথে অবস্থানের কারণে ইয়েমেন, ভারত ও পাকিস্তানের হাজিরা নীলের মতো হালকা ও মূল্যবান রং নিয়ে আসতেন।

আল-সুকুরের মতে, ত্রিভুজই নাজরানি নকশার মূল উপাদান। ত্রিভুজগুলো বারবার আঁকা হয় এবং প্রতিটির ভূমির মাঝখান থেকে নতুন ত্রিভুজ ওঠে, যা দেয়ালে নিয়মিত জ্যামিতিক ধারা তৈরি করে। ভিন্ন ভিন্ন রঙের ত্রিভুজে ভাগ করা বৃত্ত গৃহকর্তার সমৃদ্ধির পরিচয় দিত, বিশেষ করে দুর্লভ রং ব্যবহার করা হলে।

ঘরের ভেতরের নকশা ও রং করার কাজ ঐতিহ্যগতভাবে নাজরানের নারীরা, বিশেষত তরুণীরা করতেন এবং এতে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতেন। আজ এই অলংকরণ শিল্প ও ইতিহাসের দলিল হিসেবে টিকে আছে।