প্রতি বছর ৩০ জুলাই, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মানবপাচারবিরোধী বিশ্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সৌদি আরব এই অপরাধ মোকাবিলায় তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রিসভা জবরদস্তিমূলক শ্রম নির্মূলের জাতীয় নীতি অনুমোদন করেছে, যার বাস্তবায়ন তদারক করে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটি প্রথম এ ধরনের নীতি, যা শোভন কর্মপরিবেশ, বৈষম্যহীনতা এবং সৌদি ও অ-সৌদি উভয় শ্রমিককে দুর্ব্যবহার, শোষণ ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষার ওপর জোর দেয়।
নীতিটি শ্রম আইন, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন, শিশু সুরক্ষা আইন, হয়রানি প্রতিরোধ আইন এবং গৃহকর্মী বিধিমালাসহ বিভিন্ন জাতীয় আইনের সঙ্গে সমন্বিত। মন্ত্রণালয় মজুরি সুরক্ষা কর্মসূচি, চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়ন উদ্যোগ, চুক্তি নথিভুক্তি, নিয়োগসংক্রান্ত অনলাইন বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগ জানানোর সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেলের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে শ্রমিক সুরক্ষায় ১২০,০০০-এর বেশি আগাম পরিদর্শন চালানো হয়েছে এবং মানবপাচারের সন্দেহে ১,৬০০-এর বেশি অভিযোগ এসেছে। লঙ্ঘনকারীদের আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য পাচারের লক্ষণ শনাক্তে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জানা জরুরি যে মজুরি সুরক্ষা, চুক্তি নথিভুক্তি ও অভিযোগ চ্যানেল তাদের অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থারই অংশ।
