সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার দেশে প্রথমবারের মতো লেজার ইন্টারস্টিশিয়াল থার্মাল থেরাপি (LITT) প্রয়োগ করেছে। এর ফলে ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না হওয়া ফোকাল মৃগী এবং নির্বাচিত ব্রেন টিউমারের রোগীদের চিকিৎসার বিকল্প বেড়েছে। উপযুক্ত ক্ষেত্রে এই স্বল্প কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি ওপেন সার্জারির বিকল্প হতে পারে।
এ পদ্ধতিতে মাথার খুলিতে ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে সরু লেজার ফাইবার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানো হয়। এমআরআই দিয়ে এর সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রক্রিয়ার সময় তাপমাত্রা ও তার বিস্তার মুহূর্তে মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে লক্ষ্যযুক্ত টিস্যুর চিকিৎসা হয় এবং আশপাশের সুস্থ টিস্যু যতটা সম্ভব কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা পাওয়া প্রথম রোগী প্রক্রিয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো জটিলতা ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়েছেন। রিয়াদে হাসপাতালের ফাংশনাল ও এপিলেপসি সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. ফয়সাল আল-ওতাইবি জানান, নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত বহুবিষয়ক দলের সূক্ষ্ম মূল্যায়নের পর রোগী নির্বাচন করা হয়।
ডা. আল-ওতাইবির মতে, মস্তিষ্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশের কাছাকাছি থাকায় আগে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত কিছু রোগের চিকিৎসা এ প্রযুক্তিতে সম্ভব হচ্ছে। আরও কর্মী প্রশিক্ষণ ও যোগ্য রোগীর সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে হাসপাতালটি এর ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে। মৃগীর ক্ষেত্রে খিঁচুনির উৎস নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে স্টেরিও-ইইজি (SEEG)-এর মতো বিশেষায়িত পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, হাসপাতালটি ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ একাডেমিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থানে রয়েছে। “ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স”-এর মতে এটি দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে মূল্যবান স্বাস্থ্য ব্র্যান্ড। “নিউজউইক”-ও একে ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা, সেরা স্মার্ট ও সেরা বিশেষায়িত হাসপাতালের তালিকায় রেখেছে।
